অবগুণ্ঠন

অবগুণ্ঠন

By সাখাওয়াত হোসেন

Publisher: সতীর্থ প্রকাশনা

Language: N/A

Format: Unknown

Pages: N/A

ISBN: N/A

৳360.00

৳252.00

30% OFF
(0.0)
0 reviews

In Stock


"অবগুণ্ঠন হলো সেই পর্দা, যা উন্মোচনের ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি সেকেন্ডকে একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষায় পরিণত করে।"


প্রতিটা গল্পের পিছনে রয়েছে হৃদয়স্পর্শী করুণ আবেগ। কখনো মনে হবে ছোট্ট কিছু ভুলের জন্য কত নির্মম কিছু হয়ে যাচ্ছে, আবার কখনো মনে হবে হয়তো এমনই হওয়া উচিত ছিল। কিছু চরিত্র মনের গভীরে স্পর্শ করবে, আর কিছু চরিত্র আনমনে শুভ্রতার আভাস দিয়ে যাবে। অবগুণ্ঠনের যাত্রায় আপনাকে স্বাগতম। সাবধান! আসার আগে হৃদয়টাকে একটু মজবুত করে নিয়েছেন তো? 


বই : অবগুন্ঠন।

লেখক : সাখাওয়াত হোসেন।

প্রকাশনী : সতীর্থ।

প্রচ্ছদ : জাওয়াদ উল আলম।

মুদ্রিত মূল্য : তিনশত ষাট টাকা মাত্র।


অবগুন্ঠন মূলত একটি গল্পগ্ৰন্থ। বেশকিছু গল্প নিয়ে অবগুন্ঠনের সমাহার। অবগুণ্ঠনের প্রথম যে গল্পটা দিয়ে শুরু হয় সেটা হলো *আফরিন*। যে তার ভালোবাসার মানুষকে একটা কলম উপহার দেয়। কলমটির নাম ইকোনো।আফরিনের বিশ্বাস, তার প্রিয় মানুষটি একসময় বড় লেখক হবে। এই গল্পটা পড়ে আমি এই গল্পের প্রেমে পড়েছিলাম। গল্পের আমি নতুন নামকরণ দিয়েছি 'আফরিন এবং ইকোনো কলম'। একটা ছোটগল্প কীভাবে মনের গভীরে দাগ কাটতে পারে, তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই আফরিন। এমন বিষাদ আর হৃদয়স্পর্শী গল্প আমার গভীরে ক্ষত আর একরাশ কল্পনার ভাবনার জগৎ তৈরি করে দিয়েছে।


একটা পাঁচ টাকার পয়সা। এটা দিয়ে কী হবে? একটি মৃত্যু! ভাবতে অবাক লাগছে, তাই না? পরের গল্পে আপনাকে স্বাগতম—*অবম*। যেখানে নিখুঁত পয়সার সাহায্যে কীভাবে তার স্ত্রীকে চিরতরে মুছে ফেলে? কেউ মৃত্যুর পিছনে কারণ খোঁজে, আর কেউ এমনি মেরে ফেলে । নাকি কিছু কারণ থাকে একান্ত গোপনে, যা কেউ কখনো জানতে পারে না।


*চন্দ্রকূহর*। এক মায়ার অতল গহ্বরে ডুবে থাকার গল্প। একটা সোনালি ফ্রেম। এক তরুণীর ছবি। ইয়াসিন স্যারের বাসার দেয়ালে এই তরুণীর ছবি দেখলে যে কেউ তাকাতে বাধ্য। এই ছবি নিয়ে রয়েছে রোমহর্ষক কাহিনী। যেটা মায়ার অন্তিম পর্যায়ে নিয়ে যাবে। যেখানে স্বপ্ন, পরাবাস্তব সব একসাথে জমাট বাঁধে। এই গল্পটা আমার বেশ লেগেছে।


মামা আমার নাম রেখেছে *কুশিয়ারা*। কুশিয়ারা একটা নদীর নাম। কিন্তু কুশিয়ারা অদ্ভুত সব কাজ করে—অনেক সময় কুকুরকে মারা, পাখি মারা, পাগলের সাথে মজা, এমনকি বান্ধবীদের সাথে কিছু জঘন্য কাজ। আবার সেই কাজগুলোরও বিভিন্ন যুক্তি সে তার নিজের মতো করে দাঁড় করায়। তার মতে, এগুলো সে ভালো কাজ করছে। যার মধ্যে অনুতাপ, অনুশোচনা, স্মৃতিবিভ্রম কিছুই কাজ করে না। জীবনে এমন কিছু মানুষ রয়েছে যে তার নামের তাৎপর্যের সঠিক ব্যবহার কিংবা অনেক কিছু তার নিজের মতো করে ভালো কাজ, ভালো থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু সে নিজে জানে না, অন্যের ক্ষতি করে কখনো সুখী হওয়া যায় না।


যে গল্পটা একটু মন খারাপ করে দিয়েছে, সেটি হচ্ছে *সমাস*। যেখানে ভাই তার বোনের দুঃখ-কষ্ট মোছানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। আর যেখানে মুখোমুখি হতে হয় অনেকগুলো ট্রমা নিয়ে। গল্পের প্লট সুন্দর। লেখক একটু ভিন্নভাবে গল্পটা লেখার চেষ্টা চালিয়েছেন। একটার সাথে একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ প্লট, আর সমাসের সংজ্ঞার মতো বিভিন্ন ধাপে ধাপে আয়ত্ত করেছেন।


রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে কতকিছু চাপা পড়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতি এসব মেনে নেবে না। *অব্যয়ের* প্রতিফলন অবশ্যই ঘটাবে। তৃষ্ণার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয় দৌড়াতে। তৃষ্ণা ছিল তুমুল বেঁচে থাকা একটি মেয়ে। হঠাৎ তার নৃশংসভাবে মৃত্যুর খবর গভীরভাবে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসকে নাড়া দেয়। এক ভয়াবহ মৃত্যু। মৃত্যুর রহস্য, রহস্যের উন্মোচন—সবটা মিলে অভূতপূর্ব এই অব্যয় গল্পটি।


কখনো পিঠে দুটো ডানা দেখেছেন? রূপকথার মতো হলেও এটাই সত্যি। আমার মায়ের এমন ডানা ছিল, সিমি। এই ডানার জন্য আমার মায়ের মৃত্যু, এবং এই ডানার জন্য আমার নতুন করে জন্ম। রূপকথার মতো হলেও এই গল্পে দারুণভাবে ফুটিয়ে উঠেছে। সমাজ অদ্ভুত কিছু দেখলে সেটা কুসংস্কার বলে দাবি করে। *মন্দন*। যেটার পরিপ্রেক্ষিতে গল্পটা লিপিবদ্ধ।


*লিলিথ*। নিশ্চয়ই মনে পড়ার কথা। যেটার টেলিফিল্ম রয়েছে। তবে টেলিফিল্ম আগে দেখবেন। কেননা টেলিফিল্মে অনেক বিস্তারিত অনেক কিছু ফুটে উঠেছে। এখানে আমি কিছুটা হতাশ, বিস্তারিত অনেক কিছু না পেয়ে। গল্পটা মাহমুদ, তার পরিবার আর ভাড়াটিয়া লিলি ও তার মেয়ে অর্ণিশাকে নিয়ে। মাহমুদ আর্টিস্ট হয়ে লিলির প্রেমে পড়েছেন। এদিকে লিলি হচ্ছে প্রতিবাদী এক চরিত্র, যার চোখে প্রেম নেই। যার পৃথিবী শুধু অর্ণিশাকে নিয়ে। লিলিথ নামের রহস্যটা না হয় পড়ে বুঝতে পারবেন। কীভাবে সহজ-সরল মেয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে, জীবন-সংগ্রাম আর সমাজের নানা বাস্তবতা পেরিয়ে কীভাবে টিকে রয়েছে, একা কীভাবে তার মেয়েকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রেম, অন্যদিকে দ্রোহ—গল্পটাকে অনবদ্য করে তুলেছে। আর হ্যাঁ! টেলিফিল্ম অবশ্যই দেখবেন।


কিশোর আর পুতুলের প্রেমের যোগসূত্র নিয়ে সূচনা। *পুষ্পক*। পুতুলের প্রিয় গাছ স্বর্ণলতা। এই স্বর্ণলতার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে—স্বর্ণলতা চুষে খেয়ে ফেলে মূল গাছকে। ঠিক যেভাবে ব্লাড ক্যান্সার হলে পুরো শরীরকে আস্তে ধীরে খেয়ে ফেলে। ঠিক যেমনটা কিশোরের হয়েছিল। সে বাঁচতে চায়। শুধু প্রেম নয়, মৃত্যু কাছে আসলেও মানুষের আশ্চর্যরকম পরিবর্তন হয়। প্রেম-মৃত্যু-বিরহ নিয়ে গল্পটি অনেক কিছু বয়ে নিয়ে গেছে।


প্রতিবাদ করতে গিয়ে যখন নিজেকে চরম মূল্য দিতে হয়। গল্পটা ইয়াকুব আলীর। যিনি একজন শিক্ষক। তার অপরাধ অষ্টম শ্রেণীর এক কিশোরীকে ধর্ষ®ণচেষ্টার অভিযোগ। *কল্ক*। এই যেন কলির সূচনা। যেখানে সত্যের চেয়ে মিথ্যের প্রাধান্য বেশি। সত্য-মিথ্যা এই খেলায় স্বাগতম কল্ক এই গল্পতে।


বিচ্ছেদ অনেক কারণে হয়ে থাকে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল অহনার। অহনা তার স্বামী মনোজকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে তার প্রাক্তন তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সেগুলোর রয়েছে অনেক প্রমাণ। অতিরিক্ত পজেসিভনেস কত ক্ষতের কারণ হতে পারে, তা এই গল্পে দেখানো হয়েছে। *বিসর্গ*। মাঝে যাত্রাপথে কিছুটা বিরতি দিয়ে চন্দ্রবিন্দুর আগেরটা একটু ভেবে নেওয়া লাগে।


*ধ্রুপদ*। মাহমুদ আর তার বাবাকে নিয়ে সূত্রপাত। মাহমুদ তার বাবার মৃত্যু নিয়ে রহস্যজনক বর্ণনা করছে। কিন্তু ব্যাপারটা সাধারণ মনে হলেও সাধারণ নয়। অতীতের ঘটনা, পারিপার্শ্বিক সব রহস্যের চাদরে ঢেকে পড়ে সেই রহস্য।


গ্রামের ওঝার ভুলভাল চিকিৎসা নিয়ে কত মানুষের যে প্রাণনাশ হয়। এক অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে হামিদ উল্লাহ ডাক্তারের কাছে হাজির হয়। *ভূতভৈরবী*। এক অদ্ভুত ফুলগাছ। হামিদের ধারণা, এই গাছের ডাল ছিঁড়ে নেওয়ার ফলে তার সমস্যা শুরু হয়েছে। এক পর্যায়ে ওনার মৃত্যু। মৃত্যুর রহস্য খুঁজতে গিয়ে ডাক্তার মুখোমুখি হয় সেই ভূতভৈরবী গাছের সাথে। কী সেই রহস্য?


অবশেষে যাত্রা শেষের দিকে। যেটা দিয়ে গল্পগ্রন্থের নামের সৃষ্টি। *অবগুণ্ঠন*। কঙ্কনের খুনের সংখ্যা ছয়। ঠান্ডা মাথায় খুন। খুনের বেশিরভাগ আপনজন, আর সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হচ্ছে সবকিছু হচ্ছে তার স্বামীর সামনে। অবম গল্পের মতো এখানে নারী চরিত্রের কিছু মিল পাওয়া যায়, সেটা হলো কারণ ছাড়া হত্যা করা। গল্পের মার্ডারের প্লটগুলো দুর্দান্ত, এদিক থেকে লেখকের ভালো লেখনী। কিন্তু এখানে তার স্বামীর চরিত্রটা একটু নড়বড়ে মনে হয়েছে। তার স্ত্রী এসব করছে, অথচ জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমার মতে ঐ চরিত্রটা আরও একটু মজবুত হওয়া দরকার ছিল। না হলে মনে হবে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই সমস্যা। তবে সব মিলিয়ে সুন্দর। উপভোগ্য।


® পরিশেষে, কোনো বই হাতে পেলে আমি শব্দচয়ন খেয়াল করি। লেখকের প্রিয় শব্দ কোনটা কোনটা হতে পারে, এই জিনিসটা আমার কাছে মজা লাগে। লেখকের এরকম একটা শব্দের আভাস পেয়েছি। শব্দটা 'শুভ্র'। গল্পগুলো শুভ্রতাকে ছাড়িয়ে হৃদয়ের কুঞ্জন নাড়াতে বাধ্য। যেখানে আফরিনের করুণ হৃদয় পারি দিয়ে অবমের বিষাদ পেরিয়ে চন্দ্রকূহরের মায়াজালে নিজেকে বন্দি করা যাবে। কখনো কুশিয়ারা নদীর মতো নিজেকে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে করবে, যেখানে পায়ের আঙুলের ফাঁকে একেক সন্ধ্যায় গজিয়ে ওঠে নির্মল সবুজ ঘাস। কখনো সমাস বুঝতে গিয়ে অব্যয়ের শরণাপন্ন হতে হবে, কিন্তু সমাসের মন্দন কুসংস্কার বলে গুটিয়ে নেবে। কখনো শিল্পীর চোখে লিলিথকে রূপান্তর করতে গিয়ে পুষ্পকের ঘ্রাণ নিতে ইচ্ছে করবে। মাঝে মাঝে কল্কের উপস্থিতিতে বিসর্গের উচ্চারণ কোথায় ব্যবহৃত হবে ভুলে যাব। ঠিক তখনই ধ্রুপদের সাহায্যে এক অদ্ভুত গাছ ভূতভৈরবীর ছোঁয়ায় মাথার মধ্যে এক অনাবিল ঘূর্ণিপাক সৃষ্টি হবে। আর যখনই সবকিছু স্বাভাবিক হবে, তখনই সায়মনে আসবে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অবগুণ্ঠন পৃথিবী।

No reviews yet. Be the first to review this book!

Leave a Review

Your rating:

Related Books